অত্যন্ত দুঃখের কথা যে একদল দুর্বৃত্ত চেষ্টা করছে রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষাসংস্থায় জমি দখল করতে।

 

অত্যন্ত দুঃখের কথা যে একদল দুর্বৃত্ত চেষ্টা করছে রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষাসংস্থায় জমি দখল করতে। ১৯২১ সালে স্থাপিত সরিষা গ্রামে এই আশ্রম গ্রামীণ মানুষের উন্নয়নের জন্য। বর্তমানে সরিষা দক্ষিণ ২৪পরগণায় অবস্থিত।

গতকাল বিশেষ সমুদায়ের একদল দুর্বৃত্ত আশ্রমের কিছু জমি বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে ঘর বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মহারাজ বাধা দিলে গুণ্ডারা অভদ্র ভাষার ব্যবহার করে এবং মহারাজকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। কিন্তু মহারাজ তাদের কাজে এগোতে না দিয়ে সতর্ক করে দেন।
প্রশ্ন হলোঃ গত ১০০বছরে যা কখনো হয়নি সেই ঘটনা আজ ঘটছে কিভাবে? এক শতাব্দী ধরে গ্রামীণ মানুষের সেবা করেও রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রম কি আজ নিরাপদ নয় দুর্বৃত্তদের হাতে? একটু দেখে নেওয়া যাক সরিষা আশ্রমের কর্মসূচীঃ

১●ছাত্রদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১০০৮ ছাত্র)। একটি ছাত্রাবাস (২১০ ছাত্র)।
২●মেয়েদের,জন্য মাধ্যমিক স্কুল (৮৩৫ জন ছাত্রী) ছাত্রী আবাস (১৩৪ জন)
৩●দুটি শিক্ষক শিক্ষণ কলেজ (১৮০ জন)।
৪●মেয়েদের জন্য টেকনিকাল বিভাগ।
৫●ভোকেশনাল ট্রেনিং সংস্থা (৪৮১)।
৬●৪টি জুনিয়ার বেসিক স্কুল (৮২১)।
৭●কোচিং সেন্টার (৬৭)।
৮●পাঠচক্র ও মূল্যবোধ শিক্ষা (৩১৬)
৯●দুটি গদাধর প্রকল্প ও ১টি বিবেকানন্দ প্রকল্পঃ দুঃস্থ শিশুদের জন্য।
১০●বিভিন্ন গ্রামের জন্য চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র।
১১●মহিলাদের জন্য কম্যুনিটি সেন্টার (৩০)।
১২●নিয়মিত ত্রাণ সেবাঃ কাপড়, কম্বল, দুধ, বই খাতা, আর্থিক সাহায্য।

 

গ্রামবাসীদের জন্য যে এই বিশাল সেবাযজ্ঞ করে যাচ্ছেন রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু-ব্রহ্মচারীরা, তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা কেন? অথবা এ কোনো বড় ষড়যন্ত্রের অংশ? গত ১০০ বছরে যা কখনো হয়নি সেটা করতে দুর্বৃত্তরা সাহস পায় কিভাবে?
এখন জনগণকে চিন্তা করতে হবে তারা রামকৃষ্ণ মিশনের এমন গ্রামীণ সেবাকাজের সমর্থনে দাঁড়াবেন কিনা। সন্ন্যাসীরা ক্ষমা করে দেবেন কিন্তু সাধারণ মানুষের কর্তব্য কী? গতকালই এই ঘটনার এক ভিডিও ভাইরাল করে দেন পঃবঙ্গের মানুষ। আজ সকাল থেকেই কর্ণাটকের একদল মানুষ গণমাধ্যমে এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে দেন অনেক জায়গায়।
আপনি যদি মনে করেন এই ঘটনার প্রতিবাদ হওয়া দরকার তবে এই পোস্ট শেয়ার করুন, ছড়িয়ে দিন বন্ধুদের মধ্যে। নিজের টাইমলাইনে এই লেখাটি রাখলেও অনেকে জানতে পারবেন। এর মধ্যে আমাদের কাছে প্রস্তাব এসেছে, এই লেখাটি নানা ভাষায় অনুবাদ করে বিভিন্ন রাজ্যে প্রচার করার জন্য।