এ বছরের কালী পূজা, আমাদের কাছে শব্দবাজি বন্ধের লড়াই

 

প্রতিবছর আতশবাজি, দীপাবলিতে সরকারের একটা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠে| কিভাবে আমাদের প্রশাসন অতিরিক্ত আতশবাজির ফলে শব্দ দূষণ প্রতিরোধ করে| তবে এবছরই যেহেতু কোর্টের নির্দেশ এসেছে যে আতশবাজি করা যাবে না সেই অনুসারে প্রশাসনের মাথা ব্যথা টা একটু বেশি| এমনিতেই তারা আতশবাজি যেন বেশি না হয় তার জন্য বিভিন্নভাবে আতশবাজি কে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন| কিন্তু এবার কোর্টের নির্দেশ থাকায় তা আরো প্রবল হয়ে ওঠে| এবং প্রশাসনের কাছে এটি একটি চ্যালেঞ্জ এর মতন বিষয় হয়ে গেছে| তাই প্রশাসনের বিভিন্ন উপায়ে এই আতশবাজি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে| তবে প্রশ্ন এটাই কি এবার প্রশাসন কিভাবে পুরোপুরি বাজির মুক্ত রাখবে ?

বিভিন্ন পরিবেশ কর্মীদের মতানুসারে,” হাইকোর্টের নির্দেশ দেওয়ার পরেও সরকার কেন কোনো নির্দেশিকা বের করেননি| অপরদিকে সরকারের কোনো নির্দেশ কেনা বের বের না হওয়াতে লুকোচুরি ভাবে অনেকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেছে আতশবাজি| আর তাই আতশবাজি ফাটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে| তবে সমাজে এখনও বহু সচেতন মানুষ আছেন সেটাই এখন আসা| তবে এই বছর আতশবাজি কমলেও অতিরিক্ত মাত্রায় ডিজে সহ মাইকেল তাণ্ডব বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে| আর এর মধ্যেই বিভিন্ন দিক থেকে অভিযোগ আসা শুরু হয়ে গেছে|

এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও যেহেতু সরকার কোন গাইডলাইন বের করেনি তাই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, চুরি পথে-তাদের শব্দবাজি বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন| গত মঙ্গলবার শুনানিতে এমন কথা উঠে এসেছে হাইকোর্টের রায় থেকে যা থেকে একটা জিনিস বোঝা যাচ্ছে যে বিভিন্ন জায়গায় লুকোচুরি ভাবে প্রচুর শব্দবাজি এদিকে ওদিকে বিক্রি হয়ে গেছে| বিশেষ করে শহরতলী এলাকায় এই বিক্রি প্রবণতা অনেক বেশি| আর কিছু কিছু ব্যবসায়ী আছে যারা প্রতিবছরের ন্যায় শুধু মুনাফার জন্য সরকারের সব নিষেধাজ্ঞা থাকার সত্বেও শব্দবাজি বিক্রি করেই চলেছে| যদিও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দোকানদারকে সরকারের তরফ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসন সেখানে গিয়ে তাদের এইসব বিষয় কি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন| তারপরেও কিন্তু বিক্রি চলছে|

তবে জেলায় জেলায় কিছু মানুষকে যে শব্দবাজি মজুত রেখেছে তা জানা গেছে | তাই প্রশাসন জেলায় বিভিন্ন জায়গায় কন্ট্রোলরুম খুলে বসেছে| আর তাছাড়াও যানবাহনের মাধ্যমে যেন শব্দবাজি এদিক-ওদিক না হওয়া কোন জায়গায় যানবাহন কি করা হচ্ছে| এবং প্রশাসনের তরফ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে কোনোভাবেই আতশবাজি এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে না পারি| এছাড়াও প্রশাসন সিভিল ড্রেসে বিভিন্ন বাজার এলাকায় নজর রাখছেন| কিছুদিন আগেই সরকারের পত্র তার ফলে মালদহ শিলিগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর পরিমাণে বাজি উদ্ধার হয়েছে এছাড়াও উত্তর দক্ষিণ দিনাজপুর জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার কোচবিহার বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি রাখা হচ্ছে| এতকিছুর পরেও সন্ধ্যাবেলায় ভেসে আসছে কিছু পাখির শব্দ বলে অভিযোগ উঠছে|
তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এবার জানানো হয়েছে যে যেকোনো জায়গায় যদি কোনরকম অসাধু ব্যবসায়ী আতশবাজি বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে বা আতশবাজি ফাটাতে গিয়ে কোথাও কেউ ধরা পড়ে তাহলে সে ক্ষেত্রে কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শাস্তি হবে| তাই এখানে সেখানে বাজি পটকা ফোটানো যাবে না কোন মতেই|