রোগমুক্ত থাকতে, দুই কোয়া রসুন..

দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা হয়| কিন্তু আমরা এটিকে সবজি হিসেবে বেশি ব্যবহার করি| কিন্তু রসুনের ঔষধিগুণ মেলা, তীব্র গন্ধ ও স্বাদ এর রসুন বিশেষত এজোএনসহ অর্গানসালফার যৌগিক উপস্থিতির কারনে হয়| এটিকে অতি প্রাচীন কালে ঋষি মনিরা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতো এবং বর্তমানের ঔষধি গুণের কারণে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়| বিশেষত আয়ুর্বেদ চিকিৎসা রসুনের বহুমুখী ব্যবহার আছে|

সর্দি, কাশি, উচ্চ রক্তচাপ, দাঁতের ব্যথা, বাতের ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়|
তবে সাধারণত আমরা যখন সবজি হিসাবে খাই তখন সেটিকে রান্না করে খাওয়া হয়| কিন্তু রান্না করে খেলে এর ঔষধি গুন আমরা পাইনা| এর ঔষধি গুণ পাওয়ার জন্য আমাদেরকে এটিকে সকালেখালি পেটে খেতে হবে|

ঔষধি গুনের জন্য দুটি করে রসুনের কোয়া নিয়ে| তা খোসা ছাড়িয়ে পিসে নিয়ে এক গ্লাস জল এর সাথে সেবন করতে পারেন| বা আপনারা চাইলে এর সাথে মধু মিশিয়ে সেবন করতে পারেন |

এবারে আমরা জেনে নেবো কি কি উপকারিতা কাঁচা রসুন কাজে লাগে–

যেসব পুষ্টিগুণ আমরা পায় তা হল ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬ এবং প্রচুর পরিমাণে পানি সমৃদ্ধ থাকে| যা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচায়| সাধারণত শীতের বেলা সর্দি, কাশি লেগেই থাকে| শীতের বেলা প্রতিদিন সকালবেলা আমরা দুটি করে যদি রসুনের কোয়া কাঁচা অবস্থায় সেবন করি তাহলে আমরা এইসব সর্দি কাশি জনিত রোগ থেকে বিরত থাকব| রসুনের মধ্যে যে নামক পদার্থ থাকে তা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে|

রসুনের মধ্যে থাকা এলিসিন, ডায়ালিন হ্যালোডিসস্লাইড, ডায়ালিল ট্রিসলফাইড জাতীয় সালফারযুক্ত মিশ্রন থাকার কারণে এটি আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখে| শীতের দিন আসতেই সকলের একটি প্রাথমিক সমস্যা হল ত্বক ফেটে যাওয়া| এছাড়া ত্বক ফেটে যাওয়ার ফলে অনেক সময় ত্বকের উপরে চুলকানির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়| এছাড়াও শীতকালে ত্বক খসখসে হয়ে যায়| এরকম ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে রসুন খুবই উপকারী| এছাড়াও ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে| তাই আপনারা জনিত রোগ ও ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে অবশ্যই কাঁচা রসুনের ব্যবহার করুন|

তবে আমাদেরকে মনে রাখতে হবে প্রত্যেকটা জিনিসের যেমন কিছু গুণ থাকে ঠিক তেমনি ভাবে কিছু ক্ষত্রিয় থাকে সে ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত| আমাদের মনে রাখতে হবে বেশি পরিমাণে কাঁচা রসুন খালি পেটে খাওয়া ক্ষতিকারক তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ মত খেতে হবে| না হলে বমি বমি ভাব বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, গর্ভবতী নারী শিশু ডায়াবেটিসের রোগী নিম্ন রক্তচাপ এবং স্তন্যদানকারী নারীদের কাঁচা রসুন কোনমতে খাওয়ানো যাবে না|